Skip to main content

তাহার রুপ (গল্প ছুয়া)

 


রুপ 

প্রথম বছর হয়েছে আমার আর আদ্রের বিয়ে । সে একদিন ও আমাকে ভালোবেসে নাম ধরেও ডাকেনি পর্যন্ত! কেনো? কারণ আমি তার মা বাবার পছন্দের পাত্রী ছিলাম! তার নয়! বিয়ের পর ৫ মাস সে আমাকে নিয়ে ঢাকা ছিলো। ওহ স্যরি! সে ছিলোনা! আমি একাই ছিলাম। সে কোথায় ছিলো আমি আধও জানিনা। বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সে অফিস জয়েন করে। গ্রাম থেকে তার মা বাবার চাপে আমাকে ঢাকা নিয়ে এলেও। একি ফ্ল্যাটে থাকেনি পর্যন্ত সে আমার সাথে। তবে মাস শেষে আমার খরচ আমি পেতাম৷ তাই দিব্বি এই বিয়ে নিয়ে না ভেবে একদমি পাত্তা না দিয়ে চলতে লাগলাম নিজের মতো করে। সত্যি বলতে বিয়ের পর এই পাঁচ মাস আমার সব থেকে ভালো কাঁটে। এক দম নিজের মতো করে ইঞ্জয় করি সব। কেও নেই বাধা দেওয়ার কেও নেই কিছুই বলার। ভালো না থেকে উপায় আছে? নেই! একদমি নেই। নিজেকে একদম বাস্তব ডানাওয়ালি পাখি লাগতো মন মতো উড়ে বেরাতাম যেখানে সেখানে। সাথী ছিলো বেষ্ট ফ্রেন্ড'স গুলো৷ 


আমার হাসবেন্ড এর বাড়ী চট্টগ্রাম এর গ্রামে হলেও সে ঢাকাতেই স্যাটেল। আর আমার বাড়ী ঢাকাতেই। তাই আমাকে তার ঢাকার ফ্ল্যাটে এভাবে রেখে দেওয়ায় আমার আরও সুবিধা হলো একা ফিল হওয়ার চান্সই নেই। ফ্ল্যাটে আমাকে একা ফেলে রাখলেও আমার হাসবেন্ড। আমি নিজেকে একা ফিল করিনি কখনও। কেনোনা বেষ্টি গুলাকে প্রায় দিন আমার সাথেই রেখেদি। মাঝে মধ্যেই সবাই মিলে পার্টি করি। বা দিন রাত সারারাত আড্ডাবাজি আর গল্প। এভাবেই ৫ মাস চলে গেলে আমি ভুলেই যাই আমার বিয়েও হয়েছিলো। কারণ হাসবেন্ড এর মা বাবার সাথে পর্যন্ত আমার কন্টাক্ট ছিলো না। আমার মা নেই বাবা আছে যার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো নয়৷ তাই না বাবা না আমি কেও কারো খোজ রাখিনি। তাই বাবা আমার সম্পর্কে কিছুই জানেনা। মেয়ে বিয়ের পর কেমন আছে সেটা দূরের কথা। আমাকে বিয়ে দিয়েই নিজের দায়িত্ব থেকে হাত ধুয়েছেন বাবা। যদিও এগুলা আমার ধারণা বটে সত্যি নাকি মিথ্যে আমি জানিনা।


এসবের মধ্যে ৫ মাস পর ১ দিন দুপুরে কল আসে আমার ফোনে একটা। হ্যাঁ একটাই আসে বেশি না।


কিন্তু তাও কপাল আমার সারা রাত আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম ভোর ৫ টায়! তাই দুপুরেও ঘুম ভেঙেনি আমার নাক টেনে ঘুমাচ্ছিলাম ভোর দুপুরেও আমি। তাই ফোন টা ধরতে পারিনি৷ সেই কল সন্ধ্যের আগে দেখে ব্যাক করলে উপাশ থেকে ফোন রিসিভ হয়। দুবার রিং হতেই.. কিন্তু কেও কথা বলছিলো না। তাই নিজেই বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করি,


-- হ্যালো হু ইজ দিস?? 


-- ইট'স মী আর্দ্র...! 


হাসবেন্ড এর এই টুকু কথায় মুহূর্তে হার্ডবিট ফাস্ট হয়ে যায় আমার। তার ভারী সুঠাম সুন্দর ভয়েসে কি ছিলো আজও বের করতে পারিনি।কিন্তু ছিলো কিছু একটা... ছোটখাটো ঢোগ লিগে বললাম,

-- ই.. ইয়েস মানে বলুন? 


😔


আর্দ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

-- তোমাকে এভাবে একা ফেলে রাখার জন্য আমি ঠিক কি বলবো জানিনা বাট আমার কাছে কোনও ওয়ে ছিলোনা তোমাকে টাইম দেওয়ার। ভবিষ্যতেও টাইম দিতে পারবো নাকি আমি জানিনা.. আমি স্যরি বলবো না অতসী। আমার বিশ্বাস আমার জায়গায় থাকলে তুমিও এটাই করতে....! অতসী যদি কখনও ডিভোর্স বা আদার্স কিছু প্রয়োজন হয় দ্যান কল মী। আই উইল হেল্প ইউ.... এন্ড আমি লন্ডন যাচ্ছি। আইল নেভার নো আমি কবে ফিরবো। সো টেক কেয়ার! গুড বাই! 


সব ঠিক ছিলো কিন্তু লাস্ট কথা গুলো.... আর্দ্রের এইটুকু কথা কেনো যেনো ঐদিন আমাকে নড়বড়ে করে দিয়েছিলো। তার বলা গুড বাই কথা টা একচুয়ালি ব্যাড বায় হওয়া দরকার ছিলো৷ এরপর আর আমি নিজের লাইফ ইঞ্জয় করতে পারিনি। না তার কাছে ডিভোর্স চেয়েছি। না আদার্স কিছু। মন আমার বড় অশান্ত হয়ে গিয়েছিলো। কেনো যেনো তার টাকা ব্যাবহার করতে গা ঘিনঘিন করতো। তার টাকা ইউজ করা বন্ধ করে দিলাম আমি। যদিও কষ্ট হচ্ছিলো চলতে। তাও চলছিলো কোন রকম কিন্তু আবার আমার প্রবলেম হতে লাগলো এবার কষ্ট হতে লাগলো তার ফ্ল্যাটে থাকতে। আই ডোন্ট নো হোয়াই! মনে হচ্ছিলো এতদিন আর্দ্র এর দোয়াতে বেঁচে ছিলাম। যে কিনা আমাকে কখনও তার ওয়াইফ হিসেবে মানেনি। মানবে কি না তাও সে জানেনা। আর আমি তার ঘাড়ে চেপে বসে তার থেকে তার ওয়াইফ হওয়ার দায়িত্ব মিটিয়ে নিয়ে দিব্বি চলছিলাম। সে কি ভেবেছে আমাকে এতো দিন ভাবতেই গা গুলিয়ে আসে নিজের উপর ছিঃ। নিজেরি রাগ হলো আমার নিজের উপর। আমি আগেই কেনো তার ছায়া তল থেকে সরে যাইনি ভেবে নিজের সেল্ফরিসপেক্ট মাটিতে মিসে যায়। একদম ভেঙে পরি আমি। বড্ড মার কথা মনে পরতে লাগলো। মনে মনে তার ফ্ল্যাট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কোথায় যাবো সে জায়গায় আমার ছিলোনা। এটা ভেবে আমি প্রায় ১ মাস কান্না করে পার করলাম একা ফ্ল্যাটে পরে রইতাম। কাওকে ডাকতাম না খাওয়া দাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলাম এটা ভাবতে ভাবতে কোথায় যাবো আমি? মাঝেমধ্যে আর্দ্রকে কল করে চিল্লিয়ে গালি দিতে ইচ্ছে করতো। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করতো কিসের শাস্তি পাচ্ছে সে?? তার ভুল কথায় ছিলো? 


 কেটে গেলো আরও কিছু দিন এখনও থাকার জায়গায় পাইনি। তবে আমায় অবাক করে দিয়ে বাবা একদিন এলো আমার সাথে দেখা করতে৷ বাবাকে ধরে বড্ড কেদেছিলাম সেদিন। মনের সকল অভিমান অশ্রু রূপে বাবার বুকে বৃষ্টির মতো ছেড়ে দিয়েছিলাম। 


আর চুপ ছিলাম না এই নরকের ভিতর থাকার কোনও ইচ্ছে ছিলোনা। আমি বাবাকে সব বলে চলে গিয়েছিলাম বাবার সাথে নিজ বাসায়। বাবা আমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে তা সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। ঐদিন সারাবেলা বাবা আমাকে বুকে জরিয়ে রেখেছিলেন। এতো উষ্ণতা আর শান্তিতে আমি সব কষ্ট ভুলে গিয়েছিলাম। সব ভুলে মাস্টার্স এ ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে লাগলাম। আজ ১ বছর আমার বিয়ের। আজ ভাবছি ভালোবেসে নাম ধরে ডাকবে দূর আমার হাসবেন্ড। সে মনে হয় আমার নাম টাই ভুলে গেছে। হাসি পেলো কথাটা ভেবেই আমার। তবে কেনো হাসি পেলো জানিনা। হয়তো নিজের উপর না হয় ভাগ্যের উপর ছিলো আমার সেই বিদ্রুপের হাসি। 

  

কেটে গেছে আরও কিছু দিন। সমাজে বিয়ের পরেও কেনো আমি বাবার বাড়ী পরে আছি তা নিয়ে কূটু কথার শেষ নেই। কিন্তু সেই কথার সমাপ্তি আছে.... আর আমি তা করবোই ভেবে নিলাম। সাথে বাবাকে ছায়ার মতো পেয়েছি। এখন বাবা আর আমার মধ্যে কোনও দুরত্ব নেই। বন্ধু হয়ে উঠেছে বাবা আমার... এর মাঝে আর্দ্র এর বাবা মা আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে গেলেন একদিন। এরপর আমি ঠিক করেই নিলাম আমি আর্দ্রকে ফোন করে ডিভোর্স চাইবো৷ আর এমন সম্পর্কে ঝুলে থাকতে ইচ্ছে করেনা। এবার নতুন করে শুধু করার সময় এসেছে৷ সমাজের মুখেও নিজে ভালো থেকে তালা দেওয়ার সময় এসেছে।  

সকালে বাবা আমাকে ডিভোর্স এর পর বিয়ের জন্য বললে রাজি হয়ে গেলাম। 


ঐদিন সকালে ঠিক করলাম ভার্সিটি থেকে এসেই আর্দ্রকে ফোন করে ডিভোর্স চাইবো৷ নতুন জীবন এর খুশী পুরোনো তিক্ততার অতীত নিয়ে চিন্তা দুটোই আমার মধ্যে ছিলো৷ এসব নিয়েই আনমনে হেটেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হুট করে চোখ উপরে তুলতেই যাকে দেখলাম রিৎপন্দন মুহূর্তে দ্রুত হয়ে গেলো বুক দুরুদুরু করতে লাগলো । ভয়ে হাত পা কাপছে। এ কাকে দেখছি আমি এর জন্যই তো শুধু মাত্র এর জন্যেই তো আর্দ্রকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম আমি। কিন্তু এর হাত থেকে বাচতে গিয়েও জীবন টা শেষ হয়ে গেলো। ভয়ে হাত পা আমার উল্টো বাসার দিকে হাটতে চাইছে কিন্তু এখান থেকে চলে গেলেও যে আমার পিছে..সামনে থাকা পাগল বাইক নিয়ে ছুটবে তা জানাই আমার। তখন চড় থাপ্পড় গালে পরবে রাস্তার লোকের সামনে অসম্মান তাই এই পাগলের সামনে স্বাভাবিক থাকা ভালো। ভার্সিটির গেটে ঢুকতেই সে আমার সামনে এসে দাড়ালো। হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলো,

-- হাউ আর ইউ মাই শেরনী? 


ভাব নিয়ে আমার জবাব ছিলো,

-- শেরনী বলে কথা! খারাপ থাকি কি করে বল?? 

  

সাথে সাথেই গালে চড় পরলো আমার। গালে হাত দিয়ে কেঁদে দিলাম আমি! ভয়ে হাত কাপছে। কেনো এলো আবার এই পার্থ নামেত ঝড় আমার জীবনে কেনো??





..............

Comments

Popular posts from this blog

ইবিথেরাপি একটি নিউট্রাসিউটিক্যালস ওষুধ

  ✊ আসুন, আমরা ক্যান্সারকে না বলি। ইবিথেরাপি গ্রহণ করি – ক্যান্সার মুক্ত দেশ গড়ি! 📞 বিস্তারিত জানতে বা ফ্রি কনসালটেশনের জন্য ইনবক্স করুন কিংবা কল করুন এই নাম্বার 📞 01973-937727 ❓ ইবিথেরাপি কী ও কতদিনে ফল দেখা যায়? মাত্র ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই ইবিথেরাপি গ্রহণে শরীরে ক্যান্সার হ্রাসের লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যায় - যা রোগী ও তার প্রিয়জনেরা সহজেই বুঝতে পারে।  💊🌿💚 🔬 ইবিথেরাপি যেভাবে কাজ করে: মুখে খাওয়ার ওষুধ পাকস্থলী পেরিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয় ➡️ তারপর পোর্টাল শিরা দিয়ে লিভারে প্রবেশ করে।   লিভার সক্রিয় উপাদানগুলোকে রক্তে সঞ্চালন করে 🩸 এবং তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে - প্রতিটি কোষে পৌঁছে রোগ প্রতিরোধে যুদ্ধ করে ⚔️🧬। 🔥 ইবিথেরাপি - যেখানে ৭ দিনেই শুরু হয় বদলে যাওয়ার গল্প! 💡 সচেতন হোন, বিজ্ঞানকে বেছে নিন। বাঁচার নতুন আশা দিন, শিখুন এবং অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন এই বিষয়ে। আসুন সবাই মিলে বাচতে শিখি নতুন আলোর পথ ধরে।  🌿 ইবিথেরাপি – ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী জৈব উদ্ভাবন! মাত্র ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই একজন ক্যান্সার রোগীর দেহে লক্ষণীয় উন্নতি—এটি শুধুই...

অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য

  দোকান: রিফাত ফ্যাশন ধরন: ধরন পণ্য: বেডশিট, জানালার পর্দা ঠিকানা: চকবাজার মোবাইল: 01720414760 দোকান: ভুইয়া পেপার হাউস ধরন: পাইকারি  পণ্য: খাতা, কাগজ, ইনভাইটেশন কার্ড ঠিকানা: ৫২, হাকিম হাবিবুর রহমান রোড, চকবাজার, ঢাকা মোবাইল: 01717159714 দোকান: বিসমিল্লাহ প্লাস্টিক হাউস পণ্য: কাচ/সিরামিক, গৃহস্থালি পণ্য ঠিকানা: চকবাজার মোবাইল: 01711907185

খাবার এর ঔষধে সেড়ে যাবে ক্যান্সার এর রোগ (The News থেকে সংগ্রহীত) আবু সালেহর উদ্ভাবিত ক্যান্সার ঔষধ

  স্বাস্থ্য বাংলাদেশি গবেষকের দাবি  খাবার এর ঔষধে সারবে ক্যান্সার ১১ মার্চ ২০২৪, ১৭:১৩  আরিফ সাওন 🎗️ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলো দেখা দিয়েছে — এখন কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ছাড়াই মুখে খাওয়ার ওষুধে ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 💊 আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ধাপের (স্টেজ) ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৫ জন রোগী এই ওষুধ গ্রহণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। 🌿 গবেষক আবু সালেহ-এর উদ্ভাবিত এই ওষুধ শরীরের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে, আবার তা যেন ফিরে না আসে তাও নিশ্চিত করে। 👩‍🔬 আক্রান্তদের মধ্যে লিভার, গলব্লাডার, স্টোমাক, ইসোফেগাস, কোলন, ব্রেস্ট, মাইয়েলোমা, লিউকেমিয়া, জিহ্বা এবং ফুসফুস ক্যান্সারের রোগী ছিলেন। 🔬 আবু সালেহ জানান, ওষুধটি শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের নয়— এমনকি শেষ পর্যায়ের বা পেলিয়াটিভ ম্যানেজমেন্ট রোগীরাও এতে সুস্থ হয়েছেন। 🎗️ ক্যান্সার এখন আর মানেই মৃত্যুর ভয় নয়! আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ছাড়াই শুধুমাত্র মুখে খাওয়ার ওষুধে ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব হতে পারে। শুনতে অবাক লাগলেও, ইতোমধ্যেই এমন ওষুধে ২৫ জন ক্যান্সার রোগী সম্পূর...